মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

বেসরকারী প্রতিষ্ঠান

অত্র ইউনিয়নে একমাত্র আশা এনজিও এর অফিস ছাড়া আর কোন এনজিও এর অফিস নেই।

আশা এনজিও এর ব্রাঞ্চ অফিস নামুড়ীরহাটে অবস্থিত।

 

‘‘দারিদ্র বিমোচন ব্যবসা, এনজিও পুঁজির বিকাশ ও এনজিও ঋণের দুষ্টচক্র’’

 

সারকথাঃ

দারিদ্র বিমেচন শ্লোগানকে ভিত্তি করে দরিদ্রের পূঁজি করে এক শ্রেণীর কতিপয় মানুষ সংগঠিত হয়ে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত না হয়েও স্থানীয় সমাজ সেবা, সমবায় অধিদপ্তর ইত্যাদি কর্তৃক নিবন্ধিত হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এনজিও প্রতিষ্ঠা করে কিভাবে তাঁরা তাদের পুঁজির বিকাশ ঘটাচ্ছে এবং এরই ক্রীড়ানকে পড়ে দরিদ্র সহায় সম্বলহীন অসহায় মানুষগুলো কিভাবে দারিদ্রের দুষ্টচক্রে নিপতিত হয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশী ও জাতীয় পর্যায়ের এনজিওদের আচরন, উদ্দেশ্য তাদের ঋন সৃষ্টির প্রক্রিয়া, সুদের হার, গ্রামীন অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, প্রাতিষ্ঠানিক মধ্যস্বত্বভোগী ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও গ্রামীন জনগোষ্ঠীর উপর মাইক্রো ক্রেডিটের ফলাফল উল্লেখিত প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় ।

ভুমিকাঃ

বর্তমান সরকার স্বাধীন দূর্ণীতি দমন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পূণঃগঠন, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণসহ আর্থিক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়াত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যেই পাবলিক লিঃ কোম্পানীতে রূপান্তর করেছে। এছাড়াও পুলিশ, সিভিল প্রশাসন, সরকারী-আধাসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলছে সংস্কার এর লক্ষ্যে শুদ্ধি অভিযান। দূর্ণীতিবাজ রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সহ দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠার জন্যও নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে সরকারী জমির উপর গড়ে উঠা অনেক অবৈধ স্থাপনা। সর্বপরি, দেশের রাজনৈতিক অবস্থার সুস্থ গতিধারা সৃষ্টি ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে সংস্কার। কিন্তু সিডর আক্রান্ত হওয়ার পর NGO গুলোর বিষয়ে সরকার কর্তৃক কিছু বক্তব্য ছাড়া কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমানে আমাদের দেশে ছোট-বড়, দেশী-বিদেশী মিলিয়ে প্রায় ২০,০০০ এর মত এনজিও রয়েছে। যাদের কার্যক্রম যাথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা আজ সময়ের দাবী। ইতোমধ্যে Micro Credit Programme এর মাধ্যমে জনকল্যাণকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডঃ ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। যদিও Micro Credit তত্ত্বের জন্য শান্তির পরিবর্তে অর্থনীতিতে নোবেল পেলে সঙ্গতিপূর্ণ হতো। ব্র্যাক পেয়েছে স্বাধীনতা পদক সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। এতসব সম্মাননার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে তাদের কর্মকান্ডের কারণে দেশের বৃহত্তর হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী কিভাবে শোষিত হচ্ছে, আর এনজিও মালিক তথা এনজিও ব্যবসায়ীরা কিভাবে গড়ে তুলছে সম্পদের পাহাড়। এনজিও ব্যবসার একমাত্র উপাদান হলো দারিদ্রতা, মাধ্যম শিক্ষিত বেকার যুব সমাজ। আর প্রকারান্তে কতিপয় ব্যতিক্রম বাদে তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো দারিদ্র বিমোচনের নামে রমরমা সুদের ব্যবসা করে অতি মুনাফা অর্জন করা।

এনজিও’র গঠন, উদ্দেশ্য, কর্মকান্ডের পরিধি ইত্যাদি দিক বিবেচনায় এনে এনজিও গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারেঃ-

(১) বিদেশী এনজিওঃ যে সমস্ত এনজিও সম্পূর্ণ বিদেশী সাহায্য পুষ্ট হয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। Micro Credit তাদের মূল
উদ্দেশ্য নয়। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি, সে ব্যাপারে সরকার জ্ঞাত আছে কিনা তা আমরা জানিনা। তবে সাধারণ জনগনের এ ব্যাপারে তেমন কোন ধারণা নেই বললেই চলে। এছাড়াও সিপিডি, টিআইবি ইত্যাদির মতো সংগঠনগুলো কাদের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে, কি তাদের উদ্দেশ্য, তারা কাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে এ বিষয়টিও সুষ্পষ্ট নয়।

(২) জাতীয় পর্যায়ের এনজিওঃ এই পর্যায়ের এনজিওর মধ্যে রয়েছে আশা, ব্য্রাক, প্রশিকার মত বড় বড় এনজিও। এই এনজিও গুলোর কর্মকান্ডের পরিধি
দেশব্যাপী। তারা বিভিন্ন ধরণের কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। Micro Credit তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য হলেও বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান গড়ে কোন কোন ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্ব ভোগী এবং কোন ক্ষেত্রে একচেটিয়া কারবারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কোন কোন এনজিও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে শিক্ষাবাণিজ্যও শুরু করেছে। এছাড়াও বড় বড় এনজিও গুলো দরিদ্র ও নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের মাঝেও ঋণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

(৩) লোকাল এনজিওঃ এ সমস্ত এনজিও গুলোর বেশির ভাগই এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত নয়। সমাজসেবা, সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হয়েই তাঁরা
তাদের এনজিও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান কাজ এবং উদ্দেশ্য Micro Credit এর নামে টাকা লগ্নি করে অধিক মুনাফা অর্জন করা ।

কর্মকান্ড, কর্মপরিধি ইত্যাদি দিক বিবেচনা করলে জাতীয় পর্যায়ের এনজিও ও লোকাল এনজিওর মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তাদের গঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ
ব্যক্তিতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ । এনজিও প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি তাঁর আজ্ঞাবহ ব্যক্তিদের নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেন। এবং প্রতিষ্ঠাতাই হয়ে যান এনজিও মালিক এবং একচ্ছত্র অধিপতি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এটা নিশ্চিত যে, এখানেও সৃষ্টি হবে পরিবারতন্ত্রের অপচ্ছায়া। এনজিওগুলো সমাজের সবচেয়ে নিমণ আয়ের মানুষদের নিয়ে সবচেয়ে উচ্চ মুনাফার ব্যবসা করেন। অথচ এজন্য তাদের দিতে হয়না ভ্যাট, ট্যাক্স। কিন্তু তারাই আজ অনেক বড় গলায় বলে থাকেন যে, তারা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মনে হয় তাদের নেই কোন লোভ, নেই কোন লাভ, আছে শুধুই ত্যাগ আর ত্যাগ। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে গরীব অসহায় মানুষদের সাথে যারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কোনরুপ জবাবদিহিতা ব্যতীরেকেই স্বাবলম্বী / আত্ন-কর্মসংস্থানের নামে ‘‘দারিদ্র বিমোচন’’ ব্যবসা করে তাদেরকে সুদের চক্রবাকে নিষ্পেষিত করে চলেছে সেখানে রাষ্ট্রের করণীয় কি, তা কালবিলম্ব না করে এখনই সরকার কর্তৃক যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। কারণ এনজিওগুলোর এ ব্যাবসা যতই সম্প্রসারিত হচ্ছে, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী এনজিও ঋণের দুষ্টচক্রে ক্রমেই আবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
আলোচ্য প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, দারিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের একটি পরিসংখ্যানিক চিত্র তুলে ধরে তাদের আসল চরিত্র উন্মোচন করা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।

(i) দারিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও কর্মকান্ডের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং

(ii) এনজিওদের সংস্কারের লক্ষ্যে কতিপয় সুপারিশ মালা পেশ করা।

পদ্ধতিঃ
আলোচ্য প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্যসমূহ মৌলিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সরাসরি অনুসন্ধানক্ষেত্র থেকে পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু মাধ্যমিক তথ্য যেমন এনজিও সম্পর্কিত দেশী বিদেশী পুস্তক, গবেষণা প্রবন্ধ সাময়িকী ও সংবাদ পত্রের সহায়তা নেয়া হয়েছে।

দারিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও কর্মকান্ডঃ

এনজিও কর্তৃক ঋণ ও সুদ সৃষ্টি :
এনজিও ঋণের সুদের বিষয়টি দু’দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। প্রথমত একজন ঋণগ্রহীতা এনজিওর নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে প্রকৃত অর্থে কি হারে সুদ (Effective Interest Rate) প্রদান করে। দ্বিতীয়ত: এনজিও গুলো ঋণের আদায়কৃত সাপ্তাহিক কিস্তি ও সঞ্চয়কে পূনঃপূনঃ বিনিয়োগ করে কি পরিমাণ সুদ আদায় করে, তার একটা সরল নমুনা চিত্র এখানে উপস্থাপন করা হলো। এক্ষেত্রে একটি লোকাল এনজিও ’প্রবাহ’ ও গ্রামীণ ব্যাংকর পাশ বইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। প্রবাহ এনজিওর পাশবই খেকে দেখা যায়, একজন ঋণগ্রহীতা ১০,০০০/= টাকা ঋণ গ্রহন করলে সার্ভিস চার্জসহ তাকে ৪৮টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে ২৫০/= টাকা হারে সর্বমোট ১২০০০/= টাকা পরিশোধ করতে হয়।
সেক্ষেত্রে প্রকৃত সুদের হার (Effective Interest Rate) হয় ৩৯.১৮%। এছাড়াও ঋণ গ্রহীতা প্রতি সপ্তাহে সঞ্চয় হিসাবে ২০/= টাকা করে জমা প্রদান করে।

Where, P = Annual No of installment

C = Amount of interest

A = Amount of loan

N = Number of installment

প্রবাহ (লোকাল এনজিও) এর ক্ষেত্রে

গ্রামীণ ব্যাংকের সহজ ঋণের পাশবই থেকে দেখা যায় যে, ঋণ গ্রহীতা ১০,০০০/=টাকা ঋণ গ্রহণ করলে তাকে ২০০/= টাকার ৫০টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে ১১,৫০০/=পরিশোধ করতে হয়।
এক্ষেত্রে Effective Interest Rate হয় ২৮.৩০%। এক্ষেত্রেও ঋণ গ্রহীতাকে প্রতি সপ্তাহে ২০/= টাকা হারে সঞ্চয় হিসাবে জমা দিতে হয়।

গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষেত্রে

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, এনজিওগুলো তাদের সুদের হার ১৫% কিংবা ২০% যায়ই বলুক না কেন প্রকৃত সুদের হার তার চেয়ে অনেক বেশী। আর বাংলাদেশে এমন কোন ব্যবসা কিংবা উৎপাদন খাত নেই যেখানে থেকে ৩০%-৪০% লাভ অর্জন করা সম্ভব। তাই সঙ্গত কারণেই এনজিও খেকে ঋণ গ্রহণ করে ক্ষণিকের জন্য একজন মানুষের স্ব-কর্মসংস্থানের (Self-Employment) সুযোগ সৃষ্টি হলেও স্বাবলম্বী হওয়া একেবারেই দূরহ ব্যপার বটে।

এনজিওগুলো শুধুমাত্র ১০,০০,০০০/=(দশ লক্ষ)টাকার ঘূর্ণায়মান তহবিল (Revolving fund) বিনিয়োগের মাধ্যমে সাপ্তাহিক কিস্তি ও সঞ্চয় আদায় করে তা পূনঃপূনঃ বিনিয়োগ করে কি পরিমাণ ঋণ, সুদ ও ঋণ গ্রহীতা সৃষ্টি করতে পারে তার একটি নমুনাচিত্র নীচের ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো।

(টাকার অংকে)

বছর

প্রবাহ (লোকাল এনজিও)

গ্রমীণ ব্যাংক

ঋণ সৃষ্টির পরিমান

ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা

অর্জিত সুদ

১০,০০,০০০/=

টাকার বিপরীতে অর্জিত সুদের হার (%)

ঋণ সৃষ্টির পরিমান

ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা

অর্জিত সুদ

১০,০০,০০০/= টাকার বিপরীতে অর্জিত সুদের হার (%)

প্রথম৩৩,০০,০০০৩৩০৩,৬৪,০০০৩৬%৩২,১০,০০০৩২১২,৭০,৬০০২৭%
দ্বিতীয়৫৪,৩০,০০০৫৪৩৮,৪৫,৬০০৮৪%৪৯,৪০,০০০৪৯৪৬,০০,৮০০৬০%
তৃতীয়১,৩০,২০,০০০১৩০২২০,০৯,২০০২০০%১,১২,১০,০০০১১২১১৩,৫১,৫০০১৩৫%
চতুর্থ৩,১৩,৩০,০০০৩১৩৩৪৮,২৪,৬০০৪৮২%২,৫৫,৪০,০০০২৫৫৪৩০,৭২,৪০০৩০৭%
পঞ্চম৭,৫৫,৮০,০০০৭৫৫৮১,০৮,৬৫,৬০০১০৮৬%৫,৮৩,৩০,০০০৫৮৩৩৭০,০৮,৬০০৭০১%
মোট১২,৮৬,৬০,০০০১২৮৬৬১,৮৯,০৯,০০০ ১০,৩২,৩০,০০০১০৩২৩১,২৩,০৩,৯০০ 

উপরের ছক থেকে স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে যে,লোকাল এনজিও ‘‘প্রবাহ’’ ১০,০০,০০০/=(দশ লক্ষ) টাকা Revolving Fund- এর মাধ্যমে প্রথম বছরে ৩৩,০০,০০০/= টাকার ঋণ, ৩৩০ জন ঋণ গ্রহীতা, ও৩,৬৪,০০০/= টাকার সুদ সৃষ্টি করে। অনুরুপভাবে দ্বিতীয় বছরে ৫৪,৩০,০০০/= টাকার ঋণ, ৫৪৩ জন ঋণ গ্রহীতা ও ৮,৪৫,৬০০/= টাকার সুদ, তৃতীয় বছরে ১,৩০,২০,০০০/= টাকার ঋণ, ১৩০২ জন ঋণ গ্রহীতা ও ২০,০৯,২০০/= টাকার সুদ, চতুর্থ বছরে ৩,১৩,৩০,০০০/= টাকার ঋণ, ৩১৩৩ জন ঋণ গ্রহীতা ও ৪৮,২৪,৬০০/= টাকার সুদ এবং পঞ্চম বছরে ৭,৫৫,৮০,০০০/= টাকার ঋণ, ৭৫৫৮ জন ঋণ গ্রহীতা ও ১,০৮,৬৫,৬০০/= টাকার সুদ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ দশ লক্ষ টাকার Revolving Fund কে পূন:পূন: বিনিয়োগ করে পাঁচ বছরে লোকাল এনজিও গুলো সাপ্তাহিক কিস্তি ও সঞ্চয় আদায় অন্তে প্রতি বছর মাত্র ১৩ বার ঋণ বিতরন করে সর্বমোট ১২,৮৬,৬০,০০০/= টাকার ঋণ, ১২,৮৬৬ জন ঋণ গ্রহীতা ও ১,৮৯,০৯,০০০/= টাকার সুদ সৃষ্টি করতে পারে। একই ভাবে গ্রামীণ ব্যাংক সমপরিমাণ টাকা বছরে ১৪ বার ঋণ বিতরন করে ৫ বছরে সর্বমোট ১০,৩২,৩০,৩০০/= (দশ কোটি বত্রিশ লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকার ঋণ, ১,২৩,০৩,৯০০/= (এক কোটি তেইশ লক্ষ তিন হাজার নয়শ) টাকার সুদ ও ১০,৩২৩ জন ঋণ গ্রহীতা সৃষ্টি করতে পারে। আবার উক্ত Revolving Fund- এর (বিনিয়োগকৃত মূল টাকা) বিপরীতে সুদ থেকে অর্জিত আয় প্রতি বছর জ্যামিতিক হারের চেয়েও বেশী হারে বৃদ্ধি পায়। ঋণ সৃষ্টির এ প্রক্রিয়াটি সহজভাবে ব্যাখ্যার জন্য Cost of Fund কে অন্তভূর্ক্ত করা হয়নি। এছাড়াও অনুমিত শর্ত হিসাবে প্রত্যেক ঋণ গ্রহীতাকে ১০,০০০/= টাকা করে ঋণ প্রদান, আদায়ের হার ১০০% এবং গড়ে ৪ (চার) সপ্তাহ অন্তর অন্তর ঋণ বিতরণ বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এনজিও গুলো প্রতি সপ্তাহেই একাধিক বার ঋণ বিতরণ করে থাকে।
ফলে তাদেরই দাবীকৃত ৯৯% আদায় সাপেক্ষে ঋণ, সুদ ও ঋণ গ্রহীতা সৃষ্টির পরিমান আরো বেশী হওয়া উচিত। অবশ্য এক্ষেত্রে এনজিওর কার্যক্রম, ঋণ সৃষ্টির দক্ষতা, যথাসময়ে ঋণ আদায় ইত্যাদি বিষয়ের উপর ঘূর্ণায়মান তহবিলের মাধ্যমে ঋণ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি নির্ভরশীল হয়ে থাকে। অর্থাৎ ক্ষেত্র বিশেষ কম-বেশী হতে পারে।

এনজিও ঋণের উদ্দেশ্যঃ
দারিদ্য পিড়ীত মানুষকে স্বাবলম্বী করা, তাদের স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা তথা দারিদ্য মুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই এনজিও গুলোর মূল
শ্লোগান। কিন্তু শুধুমাত্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হতে পারে, এ কথা সর্বদায় সত্য নয়। ঋণের পাশাপাশি চাই উদ্যোক্তাকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত করা, বিপননের ক্ষেত্রে সহায়তা করা, সর্বপরি ঋণ গ্রহীতার ব্যবসাকে লাভবান করার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগীতা করা। কিন্তু বাস্তবে এ অবস্থাটি কতিপয়
ক্ষেত্রে উদাহরণ স্বরূপ দেখা গেলেও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এনজিও গুলো ঋণ বিপনন (Loan Marketing) প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। কোন্ খাতে কি কারনে ঋণ দেওয়া হচ্ছে কার্যত: তাদের কাছে সেটি মূখ্য বিষয় নয় । মূলত: ঋণ প্রদান আর সাপ্তাহিক কিস্তি আদায় এ দুয়ের মাঝেই এনজিও গুলোর কর্মকান্ড সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ধরা যাক, একজন ঋণ গ্রহীতাকে লেয়ার মুরগীর জন্য ঋণ দেওয়া হলো। কিন্তু মুরগীর ডিম পাড়ার আগেই গ্রহীতাকে সুদ সহ ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা দিতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, যেখানে ঋণ গ্রহীতার কোন আয়ই হলো না তবে সে কোন্ উৎস থেকে সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা, সুদের টাকা পরিশোধ করবে সেটি তাদের কাছে বিবেচ্য নয়। অর্থাৎ আয় না হলেও একজন উর্পাজনহীন ব্যক্তি কিভাবে ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা পরিশোধ করে স্বাবলম্বী হতে পারেন সে তত্ত্বটি কারো জানা আছে কিনা, বাস্তবে তা সম্ভব কিনা তা আমার জানা নেই। যা হউক দারিদ্র বিমোচন ব্যবসায়ীরা তাদের সফলতার বিজ্ঞাপন প্রচার করেন অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মতো ব্যবসা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে। সে সমস্ত বিজ্ঞাপনের মডেল হন টেলিফোন লেডি আনোয়ারা বেগম, জোবরা গ্রামের সুফিয়া বেগম, ঢাকার কাপাসিয়া উপজেলার হাজেরা বেগম এবং নাম না জানা আরো কেউ কেউ।

তাদের বিজ্ঞাপনের মাঝে আড়াল হয়ে যায় হাজারও মরিয়ম, জুলেখাদের করুন কাহিনী। যেমনি ভাবে হারিয়ে গেছে প্রলয়ংকরী ঘুর্নিঝড় সিডর এর আঘাতে, ভাটার টানে তলিয়ে যাওয়া হাজারও মানুষের কথা। আসলে নিখোঁজ মানুষের মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা হয় না। তাই মৃত্যু সংবাদে থাকে না তাদের সংখ্যা,থাকে না তাদের নাম। তেমনি ভাবে এনজিওদের ঘুর্নায়মান সাপ্তাহিক কিস্তি ও সুদ যন্ত্রের তান্ডবে হাজারও মানুষের করুণ কাহিনী হারিয়ে গেছে বিজ্ঞাপনের মডেলদের দৃশ্যমান সফলতার আড়ালে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সরচেয়ে বেশি সংখ্যক এনজিও এর কার্যক্রম কুড়িগ্রামে। অথচ সবচেয়ে বেশি দারিদ্রতায় নিপতিত মানুষই আজ সেখানে বাস করে। অথচ প্রতি বছরই সেখানে মঙ্গাঁ হয়। এনজিও গুলো সেখানে নিজেদের উন্নতি ঘটালেও দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের উন্নতি ঘটাতে পারেনি। তবুও কি তারা বলবেন, শুধুমাত্র মাইক্রো ক্রেডিট এর মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়। তাই কুড়িগ্রামকে এনজিও গুলোর সফলতা/ বিফলতার ভিসেরা রির্পোট হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সুতরাং যুক্তিসংগত কারনেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই মাইক্রো ক্রেডিট তত্ত্বটি অর্থনীতির উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ের মধ্যে এখনও অর্ন্তভূক্ত হতে পারে নি।

মাইক্রো ক্রেডিটের ফলাফলঃ
আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে এনজিও গুলোর কাজের ব্যপকতা অনেক। সংগত কারনেই একথা আজ স্বীকার্য যে, এনজিও গুলো আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা,সামাজিক বনায়ন, সেনিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সম্পুরক ভূমিকা পালন করছে। তারা মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যও নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু মানুষ যদি ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে, তবে সে আপনা আপনিই সকল অধিকার হারিয়ে ফেলে, হারিয়ে ফেলে সামাজিক মর্যদা। উচ্চ সুদজনিত কারনে ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে যেয়ে পরিবারের একাধিক সদস্য কিংবা একই সদস্য কর্তৃক একাধিক এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এমনিভাবে তারা এনজিও ঋণের দুষ্টু চক্রে (Vicious Circle of NGO’s Micro Credit) আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। যেখানে থেকে বেরিয়ে আসা আদৌ তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। Vicious circle of NGO’s Micro Credit= দারিদ্রতা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ স্বল্প আয় ঋণ পরিশোধের জন্য পরিবারের একাধিক সদস্য কর্তৃক অধবা একাধিক এনজিও থেকে পূনরায় ঋণ গ্রহণ ঋণগ্রস্ত পরিবারের জন্ম দেয় এবং পরিবার কর্তৃক পুনরায় ঋণ গ্রহণ। ফলে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণকারীকে পারিবারিক ভাবে ও আরও ঋণগ্রস্থ করে তোলে। সংগত কারনেই এই সকল ঋণগ্রহীতারা সর্বপ্রথম তাদের নাগরিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা হারায়।

গ্রামীন অর্থনীতিতে মূদ্রাস্ফীতিঃ ঋণ গ্রহীতা যদি উৎপাদন খাতের জন্য ঋণ গ্রহণ করে। তবে উচ্চ সুদ জনিত কারনে উৎপাদন খরচ বেশী হয়। ফলে তার উৎপাদিত পন্য বেশী দামে বিক্রী করতে হয়। আবার গ্রহীতা যদি অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ গ্রহণ করে তবে স্বভাবজনিত কারনে তাৎক্ষনিকভাবে তার ভোগ ব্যয় বৃদ্ধি পায়। আর এই উৎপাদন ও ভোগ ব্যয় বৃদ্ধিজনিত কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাথমিকভাবে একধরনের মূদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি করে। আর গ্রামীণ বাজারে পণ্য মূল্য যে হারে বৃদ্ধি পায় তার প্রভাবে শহরাঞ্চলে সে সমস্ত পণ্যের মূল্য আরও বেশী হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে Macro অর্থনীতিতে মূদ্রস্ফীতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ে।

প্রাতিষ্ঠানিক মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী ও সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠানঃ
বেশ কিছু বড় এনজিও রয়েছে যারা আড়ং, গ্রামীন চেক ইত্যাদির মত মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে শ্রমিকদেরকে নামমাত্র মজুরী দিয়ে উৎপাদিত পন্য অনেক বেশী মূল্যে বিক্রয় করে অতি মুনাফা লাভ করছে। এতে করে এনজিও দের ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠান অতি মুনাফা অর্জন করলেও তারা দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে সস্তা শ্রমের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর শ্রমিকদের মতই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে মাত্র। শ্রমের বিনিময়ে তারা যে নূন্যতম মজুরী পায় তা দিয়ে কোন রকমে দু’এক বেলা অন্নের সংস্থান হলেও তাদের সস্তানদের চিকিৎসা, লেখাপড়া করানোর সামর্থ্য তৈরী হয় না। ফলে এনজিও গুলোর সম্পদ বাড়লেও শ্রমিক শ্রেণী গরীব শ্রেণীরই প্রসার ঘটায় এবং সামাজিক বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পায়। মুনাফাই প্রধান লক্ষ্য হওয়ায় আশা, ব্র্যাক প্রভৃতি এনজিও গুলো শিক্ষা বানিজ্যের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। আর এক্ষেত্রে তাদের দ্বিমূখী শিক্ষানীতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে এনজিও গুলো ভূমিকা রাখলেও তারা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে এমন ভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় না যাতে করে গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা তাদেরই প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়া-লেখার সুযোগ পায়। অর্থাৎ গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত দারিদ্র বিমোচনে ব্রত এনজিও গুলোর বিশ্ববিদ্যালয়/ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষা লাভের তেমন কোন সুযোগ থাকে না। বরং অর্থের অভাবে ঝরে পড়া মেধার বিকাশ এর সুযোগ সৃষ্টির পরির্বতে এনজিও গুলো বিত্তবানের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ সৃষ্টি করছে মাত্র।বিনিময়ে অর্জন করছে অতি মুনাফা। ইতোমধ্যে তারা ব্যাংকিং খাতেও অনুপ্রবেশ করেছে। গরীব মানুষের নিকট থেকে লুণ্ঠিত সুদের মাধ্যমে অর্জিত উদ্ধৃত্ত মুনাফা কে ক্রমেই তারা বহুমূখী লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝে সম্প্রসারণ করে চলেছে। এবং অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূলচালিকা শক্তিই তাদের নিয়ন্ত্রনে চলে যাবে। অবশ্য গ্রামীণ ব্যাংকের আজীবন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ ইউনূস বেশ জোর গলায় বলে থাকেন তাদের গ্রাহকরাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক। তবে কি সত্যিই গ্রামীণ ব্যাংকের অর্জিত মূনাফা গ্রাহকদের মাঝেই বন্টিত হয়? যদি হয় তবে তা কিভাবে হয় ? তাদের শেয়ারই বা কতটুকু? এ নিয়ে সন্দেহের প্রশ্ন থেকেই যায়। যা হউক বর্তমানে যেভাবে মাইক্রো ক্রেডিট, মধ্যস্বত্ত্বভোগী প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, শিক্ষা-বাণিজ্য ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান হারে ব্যক্তি নিয়ন্ত্রিত এনজিও পুজির বিকাশ ঘটছে তাতে করে এদেশে দারিদ্র বিমোচন নয় বরং কতিপয় রায়দূর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেঠের উত্থান ঘটবে। এবং এক সময় নবাব সিরাজের মত সরকার হয়ে পড়বে অসহায় । তাই আর কালবিলম্ব না করে এখনই যদি সরকার এনজিওদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন না করে তবে অচিরেই তারা সমান্তরাল সরকার হিসাবে আর্বিভূত হবে। তখন এনজিও গুলোই হবে সরকারের নিয়ন্ত্রক।

এনজিও গুলো সংস্কারের লক্ষ্যে কতিপয় সুপারিশমালাঃ

১। এনজিও’র গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। একই ব্যক্তি যাতে বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার না থাকেন।

২। স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ঋণ প্রদান করতে হবে। উৎপাদনশীল খাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় কারিগরী জ্ঞান প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবসহা করা সহ উৎপাদিত পন্যের বিপনন ব্যবস্থাকে মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীদের দখলমুক্ত করতে হবে।

৩। সুদের হার সহনশীল হতে হবে। শুধুমাত্র ঋণের বকেয়ার উপর সুদ নিরূপন করতে হবে।

৪। মাইক্রো ক্রেডিট সহ সকল ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের খাতের সাথে সংগতিপূর্ণ কিস্তির সময় ও যথাযথ ভাবে গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারন করতে হবে।

৫। প্রতিষ্ঠানটি যাতে নিজেই অতি মুনাফামূখী মধ্যস্বত্ত্ব ভোগী হিসাবে সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এবং প্রয়োজনে উৎপাদন কাজে সংশ্লিষ্টদের মাঝে পারিশ্রমিকের পাশাপাশি লভ্যাংশ বণ্টন করতে হবে।

৬। Back-ward Linkage Education System গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা এনজিওদের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়/ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভের সূযোগ পায়।

৭। বিভিন্ন ধরনের দেশী-বিদেশী অনুদান এর ঘোষণা প্রদান করতে হবে।

৮। বার্ষিক স্থিতি পত্রের ঘোষণা প্রদান করতে হবে। এবং সর্বপরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্প্রতি সরকার মন্দা অর্থনীতিকে চাঙ্গাঁ করতে ব্যাংক আমানত ও ঋণের সুদের হারের স্প্রেড যাতে ৪/৫ শতাংশের বেশী না হয় সে লক্ষ্যে নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে। তাই সংগত কারনেই প্রায় দুই কোটিরও বেশি হতদরিদ্র মানুষ যারা এনজিও ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি ও ৩০-৪০ শতাংশ সুদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে, তাদের মুক্তির লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সরকার কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

উপসংহারঃ
দরিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও গুলো ক্ষুদ্রঋন কার্যক্রম ছাড়াও শিক্ষা স্বাস্থ্য ইত্যাদি খাতে পুঁজি লগ্নি করে যেভাবে যেহারে মুনাফা শোষন করছে তাতে সরকার যদি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে তাদের উপর নিয়ন্ত্রন না রাখে তাহলে অদুর অবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রন তাঁদের হাতেই চলে যাবে বলে আপাত দৃষ্টিতে তা মনে হচ্ছে।


Share with :

Facebook Twitter